মানবতাবিরোধী অপরাধে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অভিযোগ গঠিত হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই অভিযোগ গঠন করা হয়।
এর মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। ট্রাইব্যুনাল এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য করেছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
দুই আসামি কারাগারে, হাসানাতসহ ২ জন পলাতক
মামলার চার আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
বাকি দুই আসামি—বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অভিযোগ গঠনের সময় এই দুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনানোর পর আসামিদের কাছে জানতে চান তারা দোষ স্বীকার করছেন কি না। জবাবে মাহাবুল ও জসিম নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।
হত্যার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন দুজন। তারা হলেন—আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। পরবর্তীতে হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহর নির্দেশে তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যরা ওই দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা করে।
দীর্ঘদিন পর এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
