মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যা: ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনের নির্দেশ আইনমন্ত্রীর
রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনমন্ত্রী নিজেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ আইনি উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আদালতে মূল আসামির লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার মূল আসামি সোহেল রানা (৩৪) গতকাল বুধবার আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের আলামত গোপন করা এবং মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে লাশ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি।
আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সোহেল রানা এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতেই নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে শুরু থেকেই রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তার পরিবার।
প্রশাসনের এই তৎপরতা ও আইনমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পর দেশবাসী এখন এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
