সামগ্রিক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান (১৪ মার্চ – ২৮ মার্চ ২০২৬)
সামগ্রিক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান (১৪ মার্চ – ২৮ মার্চ ২০২৬)
| মাধ্যম | দুর্ঘটনার সংখ্যা | নিহতের সংখ্যা | আহতের সংখ্যা |
| সড়ক পথ | ৩৪৬ | ৩৫১ | ১০৪৬ |
| রেল পথ | ২৩ | ৩৫ | ২২৩ |
| নৌ-পথ | ৮ | ৮ (নিখোঁজ ৩) | ১৯ |
| মোট | ৩৭৭ | ৩৯৪ | ১২৮৮ |
২০২৫ সালের তুলনায় তুলনামূলক চিত্র
বিগত ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের চিত্র বেশ উদ্বেগজনক:
-
সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে: ৮.৯৫%
-
প্রাণহানি বেড়েছে: ৮.২৬%
-
আহত হওয়ার হার বেড়েছে: ২১.০৫%
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ও ধরন
-
মোটরসাইকেল আতঙ্ক: বরাবরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে (৩৬.১২%)। ১২৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
-
দুর্ঘটনার ধরন: ৩৫.৮৩% ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ৩২.৩৬% ক্ষেত্রে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
-
সড়কের ধরন: ৪৩.০৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে এবং ৩০.০৫% আঞ্চলিক মহাসড়কে।
পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন:
-
মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব: তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিবহন সেক্টর প্রভাবমুক্ত থাকায় শৃঙ্খলা ছিল, কিন্তু বর্তমানে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের চাপের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা আবার বেড়েছে।
-
প্রতিনিধিত্বের অভাব: সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি না রাখা এবং মালিকদের একচেটিয়া সুবিধার সুযোগ করে দেওয়াকে তিনি দুর্ঘটনার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
-
সমন্বয়ের অভাব: নতুন সরকার হলেও পুরনো আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং বিগত সরকারের মতো একই কৌশল অবলম্বনের ফলে সড়ক পরিবহন সেক্টরের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এবারের দুর্ঘটনায় চিকিৎসক, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
