জনবান্ধব বাজেটের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা – citynews96
LatestNewsরাজনীতি

জনবান্ধব বাজেটের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা

বাজেট ২০২৬: শিরোনামের প্রস্তাবনা

১. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বস্তি: বাজেট প্রণয়নে সতর্ক অবস্থানের আহ্বান ২. ‘মানুষের কষ্ট লাঘবই হোক লক্ষ্য’: প্রবৃদ্ধির চেয়ে স্বস্তিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ ৩. বাজেট যেন মূল্যস্ফীতির আগুনে ঘি না ঢালে—সতর্কবার্তা অর্থনীতিবিদদের

প্রতিবেদন: জনবান্ধব বাজেটের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটাই জোরালো দাবি—বাজেট যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে না দেয়। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন কোনো পদক্ষেপ বা কর কাঠামো আরোপ করা ঠিক হবে না, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

উচ্চ খেলাপি ঋণ একটা বড় সমস্যা
ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ব্যাংক খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ একটা বড় সমস্যা। পাশের দেশ ভারতে আড়াই শতাংশ, পাকিস্তানের খেলাপির হার ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ৩০ শতাংশের ওপরে। সামগ্রিক ব্যাংক খাতে এখন ৩ শতাংশের মতো মূলধন ঘাটতি রয়েছে। মন্দ ঋণ কমানোর একটা ফ্রেমওয়ার্ক করতে হবে। ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণের ওপর জোর দিতে হবে। তা না হলে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট লাইন কমিয়ে দিচ্ছে, পুরো ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর যার প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, আমরা স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করি। সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ কম নিতে হবে। কর আদায় ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশন করতে হবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে পুরো লেনদেন ব্যবস্থাপনাকে ক্যাশলেস করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপায় বা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেয়, তবে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। তাই বাজেটে ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি ঘাটতি অর্থায়নে সতর্ক থাকতে হবে।

মানুষের কষ্টের অবসান যেখানে বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে করের বোঝা যেন সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে। বরং:

  • আয়কর মুক্ত সীমা: মধ্যবিত্তের স্বস্তির জন্য আয়কর মুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো।

  • অপরিহার্য পণ্যে শুল্ক ছাড়: চাল, ডাল, তেল ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা।

  • সামাজিক নিরাপত্তা: টিসিবি বা ওএমএস-এর মতো কার্যক্রমের আওতা বাড়িয়ে নিম্নবিত্ত মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া।

বিশেষজ্ঞের অভিমত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে এখন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল রাখাই বড় সার্থকতা। তারা মনে করেন, এমন বাজেট প্রণয়ন করা উচিত যা প্রবৃদ্ধির চেয়েও ‘জনস্বস্তি’কে বেশি গুরুত্ব দেবে। অন্যথায়, নতুন বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *