বাবার খনন করা খাল ৪৭ বছর পর পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা ঐতিহাসিক ‘দরিরামপুর ধরার খাল’ ৪৭ বছর পর পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার (২৩ মে) বেলা ২টা ২০ মিনিটে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের দরিয়ারপুর গ্রামে নিজ হাতে মাটি কেটে এবং সেই মাটি শ্রমিকের মাথায় তুলে দিয়ে এই পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন সরকারপ্রধান।
সড়কপথে ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী
এর আগে সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। দরিয়ারপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান লিটনসহ দলীয় উচ্চপর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান।
আবেগঘন পরিবেশ ও স্মৃতিচারণ
বাবার স্মৃতিবিজড়িত এই খালের পুনঃখননকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বইলর ইউনিয়নের বয়োবৃদ্ধ জালাল ইসলাম স্মৃতিচারণ করে বলেন:
“আমি তখন যুবক। জিয়াউর রহমানকে দেখেছিলাম গেঞ্জি আর প্যান্ট পরে এই খাল খননের উদ্বোধন করতে। আজ তার ছেলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এসে আবারও এই খাল খনন করছেন। আমরা এই এলাকার মানুষ খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।”
সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, “বাবার কেটে যাওয়া খাল ৪৭ বছর পর ছেলের পুনরায় উদ্বোধন করা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
স্থানীয়দের দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কর্মসূচি
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালের পাশের সড়কটি পাকাকরণ এবং এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জোর দাবি জানান।
খাল খনন কর্মসূচির পর প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছে:
-
নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধন: খাল খনন শেষে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের নজরুল ডাকবাংলোতে ক্ষণিকের বিরতি নেন। এরপর তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নজরুল মঞ্চে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
-
দলীয় সাংগঠনিক সভা: বিকেলে ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে ত্রিশাল ও আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
