এবার ঢাকার সব গণপরিবহনে বসছে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ মার্চ, ২০২৬
সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ করতে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (GPS) সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রবিবার (২৯ মার্চ) ঈদযাত্রা-পরবর্তী এক মূল্যায়ন সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, “মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কঠোর হচ্ছি। এখন থেকে ৮০ কিলোমিটারের উপরে গতি উঠলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিজিটাল নজরদারিতে যা থাকছে: বৈঠকে জানানো হয়, সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রধানত চারটি বিষয় মনিটর করা হবে:
-
গতি নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে কন্ট্রোল রুমে সংকেত পৌঁছাবে।
-
রুট ভায়োলেশন: নির্ধারিত রুটের বাইরে গাড়ি চালালে তা সহজে শনাক্ত করা যাবে।
-
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা সহজ হবে।
-
ফিটনেস যাচাই: ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামলে জিপিএস ডাটার মাধ্যমে তা ধরা পড়বে।
ঈদযাত্রা ও আগামী পরিকল্পনা: এবারের ঈদযাত্রায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়লেও কোথাও বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
আগামী ঈদুল আজহায় যাত্রা আরও নিরাপদ করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে: ১. অস্থায়ী বাজার উচ্ছেদ: মহাসড়কের পাশে কোনো অস্থায়ী বাজার বসতে দেওয়া হবে না। ২. টার্মিনাল কেন্দ্রিক টিকিট: যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থেকেই টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। ৩. পণ্যবাহী যান নিয়ন্ত্রণ: ঈদের সময় ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে আরও কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। ৪. ফেরি পারাপার: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরিতে আগে যাত্রী নামিয়ে তারপর যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করা হবে।
বিআরটিএ (BRTA) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। ইতিমধ্যে চালু থাকা সিসিটিভি ও স্পিড ক্যামেরার পরিধি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
