নারায়ণগঞ্জে মাটি কাটার দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা খুন, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর; আটক ৪
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ওসমান গনি (৪২) নামের এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন। এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকার কাউন্দার চক নামক স্থানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ওসমান গনি উপজেলার বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার নাতনি জামাতা এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন জিকুর ছোট চাচা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হামলা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজারের ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটা নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার রাতে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীর লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওসমান গনির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তবে ঢাকা নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সড়ক অবরোধ ও ক্ষোভ
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন নিহতের স্বজন ও বিএনপির শত শত নেতাকর্মী। তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করলে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা হলেও উপজেলা প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই এলাকায় বারবার এমন রক্তাক্ত সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, “খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। পাশাপাশি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ।”
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
