সমগ্র বাংলাদেশ

দপ্তরির চাকরি না পেয়ে স্কুলমাঠেই পাটচাষ! ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

কালুখালী (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি | ২০ মে, ২০২৬

দপ্তরির চাকরি না পেয়ে ক্ষোভে ও প্রতিবাদে স্কুলের খেলার মাঠেই পাটচাষ শুরু করেছেন এক যুবক ও তার বাবা। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মুরারীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সজিব খাঁন ও তার বাবা কালাম খাঁন।

স্কুলমাঠে বিশাল পাটক্ষেত গড়ে ওঠায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

ক্ষোভ ও প্রতিবাদের নেপথ্যে ‘চাকরির প্রলোভন’

অভিযুক্ত সজিব খাঁন ও তার বাবা কালাম খাঁনের দাবি, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সজিবকে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। সেই শর্তে তাদের নিজস্ব জমির ওপর স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল (সীমানা প্রাচীর) নির্মাণ করতে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সজিবের চাকরির কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

সজিব খাঁন বলেন:

“আমরা বাধ্য হয়ে আমাদের জমিতে পাট চাষ করেছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ হয় আমাকে চাকরি দিক, না হয় আমাদের জমির দাম পরিশোধ করুক। তা-ও না হলে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দেওয়া হোক, যাতে আমরা আমাদের জমিতে স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি।”

বিপাকে ১৪২ শিক্ষার্থী, ব্যাহত খেলাধুলা

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এখানে মোট ১৪২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। মাঠের সিংহভাগ জুড়ে পাটক্ষেত থাকায় টিফিনের সময় বা অন্য কোনো অবসরে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। দিন দিন পাটের গাছ বড় হতে থাকায় বিষাক্ত পোকামাকড় বা সাপের উপদ্রবের ভয়েও দিন কাটছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। দ্রুত মাঠ থেকে পাটক্ষেত অপসারণের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

যা বলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুন্নাহার খানম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তৎকালীন সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিম বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য কালাম খানের কাছ থেকে জমিটি নিয়ে দিয়েছিলেন। কথা ছিল সজিবকে চাকরি দেওয়ার পর জমিটি স্কুলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া আর সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মাঠে পাটের আবাদ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “স্কুলের মাঠে পাট দিন দিন বড় হচ্ছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি কীভাবে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *