Latestসমগ্র বাংলাদেশ

হাসপাতালের রান্না মুখে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ‘এ তরকারি কি আপনারা বাসায় খেতেন?’

খুলনা প্রতিনিধি | ২০ মে, ২০২৬

খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের খাবারের নিম্নমান, জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের কৃত্রিম সংকট এবং বিভিন্ন অনিয়ম দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আজ বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছান। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শৌচাগার ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

তরকারি মুখে দিয়ে ফেলে দিলেন মন্ত্রী

ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শনে যান। সেখানে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা কুমড়ার তরকারির মান দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তরকারি মুখে দিয়ে তা ফেলে দেন মন্ত্রী।

উপস্থিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন:

“এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি আপনারা খেতেন?”

তিনি অবিলম্বে রোগীদের জন্য পুষ্টিকর ও ভালো মানের খাবার সরবরাহের জন্য হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে কঠোর নির্দেশ দেন।

ভ্যাকসিনের মিথ্যা অজুহাত ও মন্ত্রীদের ক্ষোভ

পরিদর্শনকালে বেশ কয়েকজন রোগী মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, তারা হাসপাতালে এসে র‍্যাবিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরকারিভাবে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক রোগীকে ২৫০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে তা কিনতে হচ্ছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গাজী রফিকুল ইসলামের কাছে জবাবদিহি চান। তত্ত্বাবধায়ক দাবি করেন, “ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছিল।”

তবে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল থেকেই ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে জানানো হয়, খুলনা হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিনের জন্য কোনো চাহিদাপত্রই পাঠানো হয়নি। কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন:

“হাসপাতালে রোগীর চাপ এত বেশি যে কিছু অনিয়ম থাকা স্বাভাবিক। তবে কিছু অনিয়ম মানার মতো নয়, আবার কিছু হয়তো ক্ষমাযোগ্য। জনগণের স্বার্থে যতটুকু অ্যাকশন নেওয়া যায়, আমি ততটুকুই যাব। অ্যান্টি র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের বিষয়টি এ রকম হওয়ার কথা ছিল না, এটি আমি আরও খতিয়ে দেখব। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় রোগীরা সামগ্রিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনার সিভিল সার্জন মোছা. মাহফুজা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

খুলনা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *