Latestরাজনীতি

তাহলে শেখ হাসিনাই কি সত্যি হলেন: প্রশ্ন তুললেন মাসুদ কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ মে, ২০২৬

“যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট মার্টিন দ্বীপ চেয়েছিল এবং তা না দিলে ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে বলে শেখ হাসিনা যে কথা বলেছিলেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও বর্তমান পরিস্থিতির পর এখন প্রশ্ন জাগে—তাহলে কি শেখ হাসিনাই সত্যি হলেন?”

সম্প্রতি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সেন্ট মার্টিন ইস্যু নিয়ে নিজের এক ভিডিও বিশ্লেষণে এই প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিরক্ষা বিষয়ক দুটি চুক্তি—GSOMIA (সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি) এবং ACSA (অধিগ্রহণ ও পারস্পরিক সেবা চুক্তি) স্বাক্ষরের শেষ পর্যায়ে থাকার গুঞ্জন এবং এর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

‘মেরিটাইম ইনসাইট’-এর প্রতিবেদন ও প্রতিরক্ষা চুক্তি

মাসুদ কামাল তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘মেরিটাইম ইনসাইট’-এর একটি প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করেন, যার শিরোনাম ছিল—*’U.S Plans To Deploy Warships In Bangladesh, Closer To India & China’।

তিনি বলেন, এই চুক্তিগুলোর মূল শর্ত অনুযায়ী মার্কিন সামরিক জাহাজ বা যুদ্ধবিমানগুলো জ্বালানি সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশের নৌ-বন্দর ও বিমান ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে। মাসুদ কামাল প্রশ্ন তোলেন:

“আমাদের নৌ ও বিমানবন্দর যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে, তবে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন বিষয়টিকে কীভাবে নেবে? তারা কি এটি সহজভাবে মেনে নেবে?”

অতীতের সমালোচনা ও বর্তমানের ‘নীরবতা’

দেশের তথাকথিত ‘দেশপ্রেমিক’ ও বুদ্ধিজীবী মহলের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে এই বিশ্লেষক বলেন, বিগত সরকারের আমলে ভারতের সাথে কোনো সাধারণ চুক্তি হলেও দেশে “দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে” বলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যেত। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এত বড় সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও সবাই রহস্যজনকভাবে নীরব।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “যেসব লোকের গোলামির কথা শুনলে গায়ের রক্ত টগবগ করে ফুটত, তারা এখন হিমশীতল রক্ত নিয়ে চুপচাপ হাসিমুখে বিচরণ করছেন। দেশের মিডিয়াও এই বিষয়ে পুরোপুরি চুপ।”

শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বর্তমান বাস্তবতা

মাসুদ কামাল মনে করিয়ে দেন যে, বিগত সরকারের শেষ সময়ে শেখ হাসিনা বারবার বলেছিলেন—যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও তার আশপাশের এলাকা চেয়েছিল। তা না দেওয়ায় তাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা তখন ভেবেছিলাম শেখ হাসিনা হয়তো জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন। অবশ্যই শেখ হাসিনার পতন এবং দেশ ছাড়ার পেছনে তার অপশাসন, গণতন্ত্র হরণ, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং অবাধ লুটপাটের মতো অভ্যন্তরীণ কারণ ছিল। কিন্তু এখন যখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর তৎপরতা ও চুক্তির বিষয়গুলো সামনে আসছে, তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগবে—শেখ হাসিনাকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল কি না।”

ফরহাদ মজহারের মন্তব্য ও মার্কিন স্বার্থ

বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম তাত্ত্বিক ফরহাদ মজহারের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের সূত্র টানেন। মাসুদ কামাল উল্লেখ করেন, ফরহাদ মজহারও সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে, এই ক্ষমতার পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ভূমিকা ছিল।

মাসুদ কামাল উপসংহার টেনে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থটা কোথায়, তা আমরা এখন ধীরে ধীরে টের পাচ্ছি। প্রথমে বাণিজ্য চুক্তি, আর এখন প্রতিরক্ষা চুক্তি। তাহলে তো দেখা যাচ্ছে, আমরা যাকে জুজুর ভয় ভেবেছিলাম, আজ সেগুলোই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *