Latestআর্ন্তজাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই খবরটি বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি এবং এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতির মূল বিষয়গুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

আইআরজিসি-র প্রধান দাবি ও হামলার বিবরণ

  • লক্ষ্যবস্তু: মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে (জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইন) অবস্থিত প্রায় ১৮ থেকে ২১টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু

  • জর্ডানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে মূল নিশানা করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, সেখানে অবস্থান করা মার্কিন এফ-১৫ (F-15), এফ-১৬ (F-16) এবং অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও বেশ কয়েকটি বিমান ধ্বংস হয়েছে।

  • কুয়েত ও বাহরাইনে ড্রোন হামলা: কুয়েতের আলি আল সালেমআহমদ আল জাবের বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) সদর দফতর ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার কারণ

আইআরজিসি-র মতে, এই সমন্বিত হামলাটি কোনো একক অভিযান নয়, বরং এটি মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার সরাসরি পাল্টা আঘাত (Retaliation)। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দক্ষিণ ইরান এবং তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় (কারাজ, নাজারাবাদ ও পিশভা) বেশ কিছু ইরানি রাডার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং আইআরজিসি ঘাঁটিতে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

স্বাধীন সূত্র ও মার্কিন মূল্যায়ন: আইআরজিসি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের যে বড় দাবি করেছে, স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র বা মার্কিন সামরিক বাহিনী (CENTCOM) এখন পর্যন্ত তার সত্যতা নিশ্চিত করেনি। সাধারণত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কিছুটা বাড়িয়ে বা কমিয়ে প্রচার করে থাকে।

  • আঞ্চলিক সতর্কতা: হামলার পর কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে ফ্লাইট অন্য দেশে ডাইরেক্ট করেছে। জর্ডান ও বাহরাইনে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস (Intercept) করতে সক্ষম হয়েছে।

  • বিশ্লেষকদের আশঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যের এই চেইন-অ্যাকশন (আমেরিকার হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলা) পুরো অঞ্চলকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বড় আকারের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জর্ডান বা কুয়েতের মতো দেশে সরাসরি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার মাধ্যমে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন তাদের হাতের নাগালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *