বিনোদন

মুক্তির আগেই আইনি মারপ্যাঁচে ‘বনলতা সেন’, নেপথ্যে ৬১ লাখ টাকার দ্বন্দ্ব!

বিনোদন ডেস্ক: কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে আসন্ন ঈদে মুক্তির ঘোষণা এসেছিল সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘বনলতা সেন’-এর। কিন্তু মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে সিনেমাটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক ও প্রযোজনা সংক্রান্ত জটিলতা, যা এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সহ-প্রযোজকের করা ৬১ লাখ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের মুখে পড়েছে সিনেমাটি।


অভিযোগের মূল বিষয়:

২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া এই সিনেমার সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তরুণ মজুমদার। সিনেমাটি ঈদে মুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন।

সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের দাবি:

  • সিনেমার নির্মাণকাজে তিনি ধাপে ধাপে প্রথমে ৪০ লাখ এবং পরে আরও ২১ লাখসহ মোট ৬১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

  • মুক্তির সময় তাকে সিনেমা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়ার সময়ও সহ-প্রযোজক হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

  • টাকা ফেরত চেয়ে না পাওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং সেন্সর বোর্ডেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

তরুণ মজুমদার বলেন: “সিনেমার কাজ শুরুর সময় সবকিছু ঠিক ছিল। পরবর্তীতে সিনেমা নিয়ে কিছু জানতে চাইলে নির্মাতা আমার সঙ্গে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে আমি টাকা ফেরত নিয়ে সিনেমা থেকে সরে যেতে চাইলে তিনি তা দেননি। বাধ্য হয়েই আইনি পথে যেতে হয়েছে।”


পরিচালকের পাল্টা বক্তব্য:

অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ‘বনলতা সেন’ সিনেমার নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। তার মতে, এটি একটি ব্যবসায়িক চুক্তির ভিত্তিতে শুরু হওয়া প্রকল্প ছিল এবং মুক্তির আগে এমন অভিযোগ তোলা দুঃখজনক।

নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল জানান:

  • সিনেমা প্রায় শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে সুদসহ টাকা ফেরত দাবি করা হয়েছিল, যা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব ছিল না।

  • সরকারি অনুদানের সিনেমার নিয়ম অনুযায়ী, অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামই মূল প্রযোজক হিসেবে থাকে।

  • মুক্তির আগমুহূর্তে প্রতারণার অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়াকে তিনি সিনেমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র ও দুঃখজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।


সিনেমা পরিচিতি:

কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতার কালজয়ী চরিত্র অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘বনলতা সেন’।

  • নাম ভূমিকায় (বনলতা সেন): মাসুমা রহমান নাবিলা।

  • জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে: খায়রুল বাসার।

  • অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে: গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল ও প্রিয়ন্তী উর্বী।

প্রেক্ষাপট: আইনি এই জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি ঈদে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে বিনোদনপাড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *