ফের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান!
ইসলামাবাদে ম্যারাথন বৈঠক
-
সময় ও ব্যাপ্তি: গত ১১ ও ১২ এপ্রিল (২০২৪/২০২৬-এর সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার একটি ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
-
নেতৃত্ব: যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নেন। ১৯৭৯ সালের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি কোনো বৈঠক।
বৈঠকের ফলাফল ও বর্তমান অবস্থা
-
কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি: টানা আলোচনার পর ১২ এপ্রিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান যে, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চাইলেও ইরান তাতে পুরোপুরি সম্মত হয়নি।
-
আবারও বৈঠকের সম্ভাবনা: যদিও আলোচনাটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম (যেমন: জিও নিউজ) এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, দুই পক্ষই পুনরায় বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে। নতুন এই বৈঠকের সময় ও স্থান খুব শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে।
-
যুদ্ধবিরতি: বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, যা আলোচনার পথকে সুগম করেছে।
প্রধান বাধাগুলো কী?
দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ার পেছনে মূলত দুটি বিষয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
-
পারমাণবিক কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি ত্যাগ করুক।
-
হরমুজ প্রণালি: এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ এবং এর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের ‘কঠোর শর্ত’ আর তেহরানের ‘জাতীয় স্বার্থ’—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
