সমগ্র বাংলাদেশ

শিশু রামিসা হত্যা মামলা: রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি নিয়োগ দিল সরকার

ঢাকা, ২৩ মে ২০২৬: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের নৃশংস মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে এই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (২৩ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের আইনি ভিত্তি ও মেয়াদ

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে:

  • ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ (ফৌজদারি কার্যবিধি)-এর ৪৯২ ধারা অনুযায়ী ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এই মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

  • প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই স্পর্শকাতর মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মামলার বিবরণ ও এজাহার

আইনি নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২০ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত গোপনের অপরাধে) পল্লবী থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয় (মামলা নং ৩৫)।

ঘটনার নৃশংস পটভূমি ও আসামিদের বর্তমান অবস্থা

  • লাশ উদ্ধার: গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটেরই বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

  • গ্রেপ্তার: নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নেমে ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীতে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

  • স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি: গ্রেপ্তারের পর মূল আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হলে সে এই নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (১৬৪ ধারা) দিয়েছে।

বিশেষ পিপির প্রতিক্রিয়া: নিয়োগ পাওয়ার পর বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু গণমাধ্যমকে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে সর্বোচ্চ ও নিশ্ছিদ্র আইনি লড়াই চালানো হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *