Latestআর্ন্তজাতিক

জর্দানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা ও যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

জর্দানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার এই খবরটি বৈশ্বিক রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর। আইআরজিসি-র (IRGC) বিবৃতি অনুযায়ী ঘটনার মূল বিষয়গুলো নিচে গুছিয়ে উপস্থাপন করা হলো:

হামলার মূল বিবরণ ও দাবি

  • আক্রান্ত ঘাঁটি: জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ আল-আজরাক বিমানঘাঁটি

  • হামলার ধরন: ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স ওই ঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

  • ক্ষয়ক্ষতির দাবি: আইআরজিসি দাবি করেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটির মূল স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন এফ-৩৫ (F-35), এফ-১৫ (F-15) এবং এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।

 হামলার কারণ (ইরানের পাল্টা জবাব)

বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী একটি হামলার সরাসরি প্রতিশোধ। মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে নিম্নলিখিত স্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল:

  1. তেহরানের পশ্চিমে কারাজ ও নাজারাবাদের নিকটবর্তী একটি বিনোদন কেন্দ্র ও শিল্প কমপ্লেক্স।

  2. পিশভা কাউন্টিতে অবস্থিত স্থানীয় আইআরজিসি-র একটি ঘাঁটি।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের বিস্তৃতি

ইরানের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, সংঘাত কেবল জর্দানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে:

  • কুয়েত ও বাহরাইন: কুয়েতের আলি আল সালেমআহমদ আল জাবের ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটিতে অবস্থিত ১৮টি প্রধান মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করা হয়েছে।

  • কৌশলগত স্থাপনা: বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (Fifth Fleet), যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিখ্যাত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

বার্তা: আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর ‘শত্রু আগ্রাসন’ বা মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই সামরিক অভিযান ও পাল্টা আঘাত চলতেই থাকবে। এই ঘটনাটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বড়সড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *