বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন আতঙ্ক: হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল’ আদায়ের পথে ইরান!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৯ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে এক নজিরবিহীন দাবি তুলেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে তেহরান এবার এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর তাদের একক নিয়ন্ত্রণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু সামরিক কৌশল নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে বিলিয়ন ডলার আয়ের একটি নতুন ছক।
তেহরানের নতুন হাতিয়ার: সমুদ্রের ‘টোল’ ব্যবস্থা
এতদিন ইরানের প্রধান দাবি ছিল পারমাণবিক কর্মসূচির স্বীকৃতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। কিন্তু ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের মতে, ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে বাৎসরিক শত কোটি ডলার আয়ের উৎস বানাতে চাইছে। দেশটির আইনপ্রণেতারা এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি বা ‘টোল’ আদায়ের জন্য একটি বিল তৈরির পরিকল্পনা করছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম ভাষণেই এই জলপথের কৌশলগত গুরুত্ব কাজে লাগানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তেহরানের লক্ষ্য—শত্রুপক্ষীয় দেশগুলোর নৌ-চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং একে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
সুয়েজ খালকেও টেক্কা দিতে পারে ইরানের আয়
সিএনএন-এর একটি সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। যদি প্রতিটি বড় ট্যাঙ্কারের জন্য ২০ লাখ ডলার ফি ধরা হয়, তবে ইরানের মাসিক আয় হতে পারে প্রায় ৮০ কোটি ডলার। এই অংকটি মিশরের সুয়েজ খালের স্বাভাবিক সময়ের আয়ের সমান এবং ইরানের বর্তমান মাসিক তেল রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশের সমতুল্য।
ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ও আইনি জটিলতা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রচেষ্টাকে ‘বিপজ্জনক’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ-পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হবে তেহরানের এই অবৈধ টোল আদায়ের প্রচেষ্টাকে রুখে দেওয়া।
আইনি সীমাবদ্ধতা:
-
আন্তর্জাতিক আইন: আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল আইন অনুযায়ী, কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলপথে ফি আদায় করতে পারে না।
-
ওমানের অবস্থান: এই প্রণালিতে ওমানেরও জলসীমা রয়েছে, ফলে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বিরোধী।
-
ট্রানজিট প্যাসেজ: নিয়ম অনুযায়ী সব দেশের এখানে অবাধ যাতায়াতের অধিকার রয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনে (UNCLOS) স্বাক্ষর না করায় তেহরান এই আইনি ফাঁকটিকে কাজে লাগাতে চাইছে।
অর্থনৈতিক সংকটের বিকল্প পথ?
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় পর্যুদস্ত ইরানের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিশাল অর্থনৈতিক ঘাটতি মেটাতেই ইরান হরমুজ প্রণালিকে তাদের আয়ের নতুন উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
