Latestসমগ্র বাংলাদেশ

নামের ভুলে আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর অভিযোগ: শার্শায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ

নামের মিল থাকার সুযোগে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পরিবর্তে মোহা. আসাদুজ্জামান নামে এক সাংবাদিক ও সাবেক কলেজ শিক্ষককে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গত রবিবার (৭ জুন) গভীর রাতে যশোরের শার্শার জামতলার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে যশোরের অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের দাবি

সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের বোন শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, রবিবার রাত ২টার দিকে পুলিশ দেয়াল টপকে বাড়িতে প্রবেশ করে কোনো ওয়ারেন্ট বা সদুত্তর ছাড়াই আসাদুজ্জামানকে আটক করে। এ সময় আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তার ভাগনে শাহরিয়ার সাদাব তরঙ্গকে মারধর ও আটক করে এবং বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে যায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসাদুজ্জামান এক সময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের প্রদর্শক ছিলেন এবং বর্তমানে শুধু সাংবাদিকতা করেন। কলেজটি ২০২৩ সালে সরকারি হওয়ার পর তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যশোর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা দিয়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেন। পুলিশকে এসব কাগজপত্র দেখানো হলেও তারা তা আমলে নেয়নি।

মূল আসামির সাথে নামের মিল

আইনজীবী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নামও আসাদুজ্জামান আসাদ, যিনি সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক। মামলার মূল আসামি ওই রাজনৈতিক নেতা হলেও নামের মিল থাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

এমনকি মামলার বাদী শার্শা ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আয়নাল হক জানান, তিনি সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে চেনেন না। ঘটনার মূল ব্যক্তি সাবেক এমপির এপিএস আসাদুজ্জামান আসাদ। আয়নাল হক আরও জানান, তিনি নিজে ঘটনা দেখেননি, থানা পুলিশ ও দলের নেতাদের অনুরোধে মামলাটি করেছিলেন।

মামলার পটভূমি

২০২৫ সালের ১ অক্টোবরের বিশেষ ক্ষমতা আইনের এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের নামে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা নাশকতার চেষ্টা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে। মামলার এজাহারে উল্লেখিত সাতজন আসামির মধ্যে এই আসাদুজ্জামানের নাম ছিল না।

পুলিশ ও আইনজীবীর বক্তব্য

  • শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন: তিনি দাবি করেন, আসাদুজ্জামান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • আসামিপক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন পাপ্পু: তিনি বলেন, “সাংবাদিক আসাদুজ্জামান চক্রান্তের শিকার। আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানির দিনে আমরা তার জামিন আবেদনের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার হলফনামা আদালতে পেশ করব।”

সাংবাদিকদের অবস্থান ও ক্ষোভ

সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর প্রেস ক্লাব, শার্শা প্রেস ক্লাবসহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। দুপুরে কায়বা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের সাথে একই হাতকড়ায় বেঁধে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে আদালতে পাঠানো হলে সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *