অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ড. ইউনূসের ভূমিকা: আইনি সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় সংকটের অভিযোগ
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি—দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনামলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে ‘কালের কণ্ঠ’র এক বিশেষ অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘দেশ উদ্ধারের’ কথা বলে ক্ষমতায় এলেও ড. ইউনূস মূলত নিজের ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ হাসিল করতেই বেশি তৎপর ছিলেন।
১. গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়: আইনের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুমোদন
প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ অনুমোদন নিয়ে।
-
দ্রুততম অনুমোদন: যেখানে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে আছে, সেখানে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ট্রাস্টের এই আবেদন মাত্র ৩ মাসে অনুমোদন পায়।
-
আর্থিক নীতি লঙ্ঘন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত তহবিল থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে মাত্র ১.৫ কোটি টাকার শর্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২. রাজস্ব খাতে বিশাল ছাড় ও রাষ্ট্রীয় ক্ষতি
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ড. ইউনূস তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপুল আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে:
-
গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ: ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য গ্রামীণ ব্যাংককে আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে।
-
কর ফাঁকির অভিযোগ: গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ এবং ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ সুবিধা নেওয়ার বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
৩. মামলা থেকে ‘দায়মুক্তি’ ও দ্রুত লাইসেন্স প্রাপ্তি
নিজের ক্ষমতার অধীনে থাকাকালীন ড. ইউনূস ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বেশ কিছু সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন:
-
সাত মামলা নিষ্পত্তি: দুর্নীতির মামলাসহ নিজের বিরুদ্ধে থাকা অন্তত ৭টি মামলা থেকে নিজেকে দ্রুত অব্যাহতি দিয়েছেন।
-
ব্যবসায়িক লাইসেন্স: ১৬ বছর ঝুলে থাকা জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’-এর জন্য ই-ওয়ালেট লাইসেন্স পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক দ্রুততায়।
৪. দেশের ‘শনির দশা’ বনাম ব্যক্তিগত লাভ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূস যখন নিজের আখের গুছিয়েছেন, তখন দেশ বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে:
-
আইনশৃঙ্খলা: মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হত্যা ও সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েছে।
-
অর্থনীতি: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের পাহাড় এবং বিনিয়োগ স্থবিরতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।
-
প্রকল্প স্থবিরতা: মেগা প্রকল্পগুলো থমকে গেছে এবং বিদেশি চুক্তিগুলো বিতর্কের মুখে পড়েছে।
৫. আইনি ও সাংবিধানিক বিশ্লেষণ
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, ড. ইউনূসের এসব কর্মকাণ্ড সরাসরি ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) এবং শপথ ভঙ্গের শামিল।
-
মনজিল মোরসেদ: তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ ব্যবহার করে ড. ইউনূস জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
-
ড. শাহদীন মালিক: সংবিধানের ১৪৭ ধারা অনুযায়ী সাংবিধানিক পদে থেকে লাভজনক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। ড. ইউনূসের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাওয়ায় এই বিধান সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে।
