নৌ-অবরোধ ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে বা মার্কিন নৌসীমার কাছাকাছি এলে ইরানের ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’গুলোকে তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করা হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে কড়া বার্তা: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ (১৫৮টি জাহাজ) ইতোমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের ক্ষেত্রে মাদক চোরাচালানকারীদের দমনে ব্যবহৃত কঠোর পদ্ধতি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়া: ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হয়েছিল, তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প আলোচনা সফল হওয়া বা না হওয়া নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন মনোভাব দেখিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি ও ঝুঁকি: দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই মার্কিন সামরিক বাহিনী এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
একটি জরুরি বিষয়: আপনি যে তথ্যগুলো শেয়ার করেছেন, তা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বর্তমান সময়ের (২০২৬ সাল) প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের নৌ-অবরোধ অনেক সময় যুদ্ধের দামামা হিসেবে বিবেচিত হয়।
আপনার কি মনে হয় এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, নাকি এটি কেবল একটি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল?
বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ কমিশন গঠনের মূল লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করা এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
সংস্কার পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে পুলিশকে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন। কমিশন গঠনের মাধ্যমে এই সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সহযোগিতা: সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাথে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশ কমিশন গঠন এবং পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে ইইউ বাংলাদেশকে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চেইন অফ কমান্ড রক্ষা: পুলিশ যাতে কোনো ধরনের বেআইনি প্রভাবে না পড়ে এবং সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে এই কমিশন ভূমিকা রাখবে।
সরকার মনে করছে, এই কমিশনের মাধ্যমে পুলিশের নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতির মতো বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হবে।
আশা ভোঁসলে বর্তমানে সুস্থ এবং জীবিত আছেন। আপনার প্রশ্নে সম্ভবত একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে—আপনি সম্ভবত কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের (আশা ভোঁসলের দিদি) মহাপ্রয়াণের কথা বলছেন, যাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছিল।
২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণের পর তাঁর মুম্বাইয়ের বাসভবন ‘প্রভুকুঞ্জ’-এ এবং পরবর্তীতে শিবাজি পার্কে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
নরেন্দ্র মোদী: ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মুম্বাইয়ে এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শচীন টেন্ডুলকর: ক্রিকেটের ঈশ্বর হিসেবে পরিচিত শচীন এবং তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি টেন্ডুলকর উপস্থিত ছিলেন।
বলিউড তারকা: শাহরুখ খান, আমির খান, রণবীর কাপুর, শ্রদ্ধা কাপুর এবং অমিতাভ বচ্চন সপরিবারে প্রভুকুঞ্জে গিয়েছিলেন।
সঙ্গীত জগৎ: জাভেদ আখতার, আশুতোষ গোয়ারিকর এবং আরও অনেক সঙ্গীতশিল্পী ও পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতিবিদ: মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, রাজ ঠাকরে, শরদ পাওয়ার এবং আরও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন।
আশা ভোঁসলে নিজেও তাঁর দিদির শেষ সময়ে এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন।
আপনি কি সম্প্রতি আশা ভোঁসলের কোনো বিশেষ সম্মাননা বা কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইছেন? কোনো বিশেষ বিভ্রান্তি থাকলে জানাতে পারেন, আমি সাহায্য করতে খুশি হব।
১. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বস্তি: বাজেট প্রণয়নে সতর্ক অবস্থানের আহ্বান ২. ‘মানুষের কষ্ট লাঘবই হোক লক্ষ্য’: প্রবৃদ্ধির চেয়ে স্বস্তিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ ৩. বাজেট যেন মূল্যস্ফীতির আগুনে ঘি না ঢালে—সতর্কবার্তা অর্থনীতিবিদদের
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটাই জোরালো দাবি—বাজেট যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে না দেয়। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন কোনো পদক্ষেপ বা কর কাঠামো আরোপ করা ঠিক হবে না, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।
উচ্চ খেলাপি ঋণ একটা বড় সমস্যা
ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ব্যাংক খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ একটা বড় সমস্যা। পাশের দেশ ভারতে আড়াই শতাংশ, পাকিস্তানের খেলাপির হার ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ৩০ শতাংশের ওপরে। সামগ্রিক ব্যাংক খাতে এখন ৩ শতাংশের মতো মূলধন ঘাটতি রয়েছে। মন্দ ঋণ কমানোর একটা ফ্রেমওয়ার্ক করতে হবে। ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণের ওপর জোর দিতে হবে। তা না হলে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট লাইন কমিয়ে দিচ্ছে, পুরো ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর যার প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, আমরা স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করি। সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ কম নিতে হবে। কর আদায় ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশন করতে হবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে পুরো লেনদেন ব্যবস্থাপনাকে ক্যাশলেস করতে হবে।
মানুষের কষ্টের অবসান যেখানে বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে করের বোঝা যেন সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে। বরং:
আয়কর মুক্ত সীমা: মধ্যবিত্তের স্বস্তির জন্য আয়কর মুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো।
অপরিহার্য পণ্যে শুল্ক ছাড়: চাল, ডাল, তেল ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা।
সামাজিক নিরাপত্তা: টিসিবি বা ওএমএস-এর মতো কার্যক্রমের আওতা বাড়িয়ে নিম্নবিত্ত মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া।
বিশেষজ্ঞের অভিমত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে এখন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল রাখাই বড় সার্থকতা। তারা মনে করেন, এমন বাজেট প্রণয়ন করা উচিত যা প্রবৃদ্ধির চেয়েও ‘জনস্বস্তি’কে বেশি গুরুত্ব দেবে। অন্যথায়, নতুন বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
]]>আজ সোমবার এক আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত।
এনবিআরের আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সময় ও ব্যাপ্তি: গত ১১ ও ১২ এপ্রিল (২০২৪/২০২৬-এর সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার একটি ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নেতৃত্ব: যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নেন। ১৯৭৯ সালের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি কোনো বৈঠক।
কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি: টানা আলোচনার পর ১২ এপ্রিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান যে, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চাইলেও ইরান তাতে পুরোপুরি সম্মত হয়নি।
আবারও বৈঠকের সম্ভাবনা: যদিও আলোচনাটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম (যেমন: জিও নিউজ) এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, দুই পক্ষই পুনরায় বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে। নতুন এই বৈঠকের সময় ও স্থান খুব শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে।
যুদ্ধবিরতি: বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, যা আলোচনার পথকে সুগম করেছে।
দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ার পেছনে মূলত দুটি বিষয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
পারমাণবিক কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি ত্যাগ করুক।
হরমুজ প্রণালি: এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ এবং এর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের ‘কঠোর শর্ত’ আর তেহরানের ‘জাতীয় স্বার্থ’—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
]]>
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং অপর পাঁচজন সদস্য একযোগে রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। পদত্যাগকারী অন্য সদস্যরা হলেন:
মো. সেলিম রেজা (পূর্ণকালীন সদস্য)
মো. আমিনুল ইসলাম (অবৈতনিক সদস্য)
কংজরী চৌধুরী (অবৈতনিক সদস্য)
ড. তানিয়া হক (অবৈতনিক সদস্য)
অ্যাডভোকেট জেসমিন আরা বেগম (অবৈতনিক সদস্য)
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরাও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কমিশনের সদস্যরা যখন পদত্যাগ করেন, তখন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জোরালো ছিল।
এই পদত্যাগের মাধ্যমে কমিশনটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীতে নতুন সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
]]>দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সারা দেশের ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২১ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই লক্ষ্যমাত্রা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দিকনির্দেশনায় দেশের সব শিশুকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুরক্ষার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথম ধাপে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।”
সরকার আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আগেই এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সংক্রমণের হার দ্রুত কমিয়ে আনতেই এই কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো:
বরগুনা: বরগুনা পৌরসভা ও সদর উপজেলা।
পাবনা: পাবনা পৌরসভা, সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা।
চাঁদপুর: চাঁদপুর পৌরসভা, সদর ও হাইমচর।
কক্সবাজার: মহেশখালী ও রামু উপজেলা।
গাজীপুর: গাজীপুর সদর।
রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা। এ ছাড়া নওগাঁর পোরশা ও নাটোর পৌরসভা ও সদর।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা এবং ঝালকাঠির নলছিটি।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা: ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা, সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা। মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।
অন্যান্য: নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা এবং যশোর পৌরসভা ও সদর।
টিকাদান কর্মসূচি চলাকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: ১. অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে: যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে বা অন্য কোনো কারণে অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২. ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল: হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
]]>দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধের সময়সীমা নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসছে না। সরকারের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা বহাল থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে দোকান ও শপিং মল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
বৈঠকের মূল বিষয়সমূহ:
সংকট মোকাবিলা: মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বর্তমানে কোনো বিকল্প নেই।
অনমনীয় সময়সীমা: ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর দাবি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্তের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ীদের অবস্থান: বৈঠক শেষে দোকান মালিক সমিতির নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টি মেনে নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই সময়সীমা পুনরায় পর্যালোচনার জন্য তারা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
কঠোর নজরদারি: বৈঠকে জানানো হয়, অফিস সময় ও বাজার বন্ধের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো শপিং মল বা বাণিজ্যিক বিতান খোলা রাখা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশজুড়ে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বাজার বন্ধের সময়সীমা বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। আজকের বৈঠকের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তই আরও একবার জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হলো।
]]>প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ অনুমোদন নিয়ে।
দ্রুততম অনুমোদন: যেখানে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে আছে, সেখানে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ট্রাস্টের এই আবেদন মাত্র ৩ মাসে অনুমোদন পায়।
আর্থিক নীতি লঙ্ঘন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত তহবিল থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে মাত্র ১.৫ কোটি টাকার শর্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ড. ইউনূস তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপুল আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে:
গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ: ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য গ্রামীণ ব্যাংককে আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে।
কর ফাঁকির অভিযোগ: গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ এবং ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ সুবিধা নেওয়ার বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নিজের ক্ষমতার অধীনে থাকাকালীন ড. ইউনূস ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বেশ কিছু সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন:
সাত মামলা নিষ্পত্তি: দুর্নীতির মামলাসহ নিজের বিরুদ্ধে থাকা অন্তত ৭টি মামলা থেকে নিজেকে দ্রুত অব্যাহতি দিয়েছেন।
ব্যবসায়িক লাইসেন্স: ১৬ বছর ঝুলে থাকা জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’-এর জন্য ই-ওয়ালেট লাইসেন্স পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক দ্রুততায়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূস যখন নিজের আখের গুছিয়েছেন, তখন দেশ বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে:
আইনশৃঙ্খলা: মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হত্যা ও সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েছে।
অর্থনীতি: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের পাহাড় এবং বিনিয়োগ স্থবিরতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।
প্রকল্প স্থবিরতা: মেগা প্রকল্পগুলো থমকে গেছে এবং বিদেশি চুক্তিগুলো বিতর্কের মুখে পড়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, ড. ইউনূসের এসব কর্মকাণ্ড সরাসরি ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) এবং শপথ ভঙ্গের শামিল।
মনজিল মোরসেদ: তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ ব্যবহার করে ড. ইউনূস জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
ড. শাহদীন মালিক: সংবিধানের ১৪৭ ধারা অনুযায়ী সাংবিধানিক পদে থেকে লাভজনক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। ড. ইউনূসের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাওয়ায় এই বিধান সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে।