আজ সোমবার এক আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত।
এনবিআরের আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং অপর পাঁচজন সদস্য একযোগে রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। পদত্যাগকারী অন্য সদস্যরা হলেন:
মো. সেলিম রেজা (পূর্ণকালীন সদস্য)
মো. আমিনুল ইসলাম (অবৈতনিক সদস্য)
কংজরী চৌধুরী (অবৈতনিক সদস্য)
ড. তানিয়া হক (অবৈতনিক সদস্য)
অ্যাডভোকেট জেসমিন আরা বেগম (অবৈতনিক সদস্য)
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরাও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কমিশনের সদস্যরা যখন পদত্যাগ করেন, তখন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জোরালো ছিল।
এই পদত্যাগের মাধ্যমে কমিশনটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীতে নতুন সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
]]>দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সারা দেশের ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২১ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই লক্ষ্যমাত্রা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দিকনির্দেশনায় দেশের সব শিশুকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুরক্ষার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথম ধাপে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।”
সরকার আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আগেই এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সংক্রমণের হার দ্রুত কমিয়ে আনতেই এই কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো:
বরগুনা: বরগুনা পৌরসভা ও সদর উপজেলা।
পাবনা: পাবনা পৌরসভা, সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা।
চাঁদপুর: চাঁদপুর পৌরসভা, সদর ও হাইমচর।
কক্সবাজার: মহেশখালী ও রামু উপজেলা।
গাজীপুর: গাজীপুর সদর।
রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা। এ ছাড়া নওগাঁর পোরশা ও নাটোর পৌরসভা ও সদর।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা এবং ঝালকাঠির নলছিটি।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা: ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা, সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা। মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।
অন্যান্য: নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা এবং যশোর পৌরসভা ও সদর।
টিকাদান কর্মসূচি চলাকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: ১. অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে: যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে বা অন্য কোনো কারণে অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২. ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল: হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
]]>দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধের সময়সীমা নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসছে না। সরকারের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা বহাল থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে দোকান ও শপিং মল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
বৈঠকের মূল বিষয়সমূহ:
সংকট মোকাবিলা: মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বর্তমানে কোনো বিকল্প নেই।
অনমনীয় সময়সীমা: ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর দাবি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্তের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ীদের অবস্থান: বৈঠক শেষে দোকান মালিক সমিতির নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টি মেনে নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই সময়সীমা পুনরায় পর্যালোচনার জন্য তারা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
কঠোর নজরদারি: বৈঠকে জানানো হয়, অফিস সময় ও বাজার বন্ধের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো শপিং মল বা বাণিজ্যিক বিতান খোলা রাখা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশজুড়ে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বাজার বন্ধের সময়সীমা বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। আজকের বৈঠকের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তই আরও একবার জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হলো।
]]>সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ২০৩১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের বিতরণ সক্ষমতা আরও ৬,২৫৫ এমভিএ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ তথ্য জানান।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬টি বিতরণ সংস্থার অধীনে মোট ১,৮৩৪টি উপকেন্দ্র সচল রয়েছে:
বাপবিবো (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড): ১,৩০৬টি
বাবিউবো (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড): ১৮৭টি
ডিপিডিসি: ৯৯টি
ওজোপাডিকো: ৯৭টি
নেসকো: ৮৫টি
ডেসকো: ৬০টি
মন্ত্রী জানান, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সারা দেশে বর্তমানে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতের মানোন্নয়নে সরকার বড় বিনিয়োগ করছে।
বাপবিবোর বিশেষ উদ্যোগ:
চলমান ৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১২৮টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৭৬টি উপকেন্দ্রের আপগ্রেডেশন চলছে।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ৩টি প্রকল্পের অধীনে আরও ২২৬টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
শুধু পল্লী এলাকা নয়, সারা দেশেই বিতরণ ব্যবস্থার সংস্কার চলছে:
ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা জোন: নতুন দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল: ৪টি চলমান এবং ৪টি নতুন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।
উত্তরাঞ্চল: ৩টি চলমান এবং ১টি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনাধীন।
প্রত্যাশিত ফলাফল: সরকার আশা করছে, এই মহাপরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং অনেকাংশে কমে আসবে। একই সাথে শিল্প-কারখানা ও আবাসিক খাতে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
| মাধ্যম | দুর্ঘটনার সংখ্যা | নিহতের সংখ্যা | আহতের সংখ্যা |
| সড়ক পথ | ৩৪৬ | ৩৫১ | ১০৪৬ |
| রেল পথ | ২৩ | ৩৫ | ২২৩ |
| নৌ-পথ | ৮ | ৮ (নিখোঁজ ৩) | ১৯ |
| মোট | ৩৭৭ | ৩৯৪ | ১২৮৮ |
বিগত ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের চিত্র বেশ উদ্বেগজনক:
সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে: ৮.৯৫%
প্রাণহানি বেড়েছে: ৮.২৬%
আহত হওয়ার হার বেড়েছে: ২১.০৫%
মোটরসাইকেল আতঙ্ক: বরাবরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে (৩৬.১২%)। ১২৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন: ৩৫.৮৩% ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ৩২.৩৬% ক্ষেত্রে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সড়কের ধরন: ৪৩.০৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে এবং ৩০.০৫% আঞ্চলিক মহাসড়কে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন:
মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব: তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিবহন সেক্টর প্রভাবমুক্ত থাকায় শৃঙ্খলা ছিল, কিন্তু বর্তমানে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের চাপের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা আবার বেড়েছে।
প্রতিনিধিত্বের অভাব: সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি না রাখা এবং মালিকদের একচেটিয়া সুবিধার সুযোগ করে দেওয়াকে তিনি দুর্ঘটনার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমন্বয়ের অভাব: নতুন সরকার হলেও পুরনো আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং বিগত সরকারের মতো একই কৌশল অবলম্বনের ফলে সড়ক পরিবহন সেক্টরের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এবারের দুর্ঘটনায় চিকিৎসক, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
]]>
সারাদেশের মাঠ প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে এবং সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজশাহী ও খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ রবিবার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপসচিব পদমর্যাদার ১১ জন কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
১. রাজশাহী: কাজী শহিদুল ইসলাম (উপসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) ২. খুলনা: হরে জান্নাত (উপসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ) ৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মো. আবু সাঈদ (উপপরিচালক, সরকারি প্রিন্টিং প্রেস) ৪. নরসিংদী: ইসরাত জাহান কেয়া (উপসচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) ৫. হবিগঞ্জ: জি.এম. সরফরাজ (উপসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ) ৬. চাঁদপুর: আহমেদ জিয়াউর রহমান (উপসচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ) ৭. লালমনিরহাট: মুহ. রাশেদুল হক প্রধান (সচিব, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) ৮. চুয়াডাঙ্গা: লুৎফুন নাহার (উপসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ৯. মাদারীপুর: মর্জিনা আক্তার (উপসচিব, অর্থ বিভাগ) ১০. মেহেরপুর: শিল্পী রানী রায় (উপসচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়) ১১. বান্দরবান: মো. সানিউল ফেরদৌস (উপ-প্রকল্প পরিচালক, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প)
প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই রদবদলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে দক্ষ কর্মকর্তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
]]>সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ করতে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (GPS) সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রবিবার (২৯ মার্চ) ঈদযাত্রা-পরবর্তী এক মূল্যায়ন সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, “মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কঠোর হচ্ছি। এখন থেকে ৮০ কিলোমিটারের উপরে গতি উঠলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিজিটাল নজরদারিতে যা থাকছে: বৈঠকে জানানো হয়, সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রধানত চারটি বিষয় মনিটর করা হবে:
গতি নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে কন্ট্রোল রুমে সংকেত পৌঁছাবে।
রুট ভায়োলেশন: নির্ধারিত রুটের বাইরে গাড়ি চালালে তা সহজে শনাক্ত করা যাবে।
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা সহজ হবে।
ফিটনেস যাচাই: ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামলে জিপিএস ডাটার মাধ্যমে তা ধরা পড়বে।
ঈদযাত্রা ও আগামী পরিকল্পনা: এবারের ঈদযাত্রায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়লেও কোথাও বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
আগামী ঈদুল আজহায় যাত্রা আরও নিরাপদ করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে: ১. অস্থায়ী বাজার উচ্ছেদ: মহাসড়কের পাশে কোনো অস্থায়ী বাজার বসতে দেওয়া হবে না। ২. টার্মিনাল কেন্দ্রিক টিকিট: যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থেকেই টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। ৩. পণ্যবাহী যান নিয়ন্ত্রণ: ঈদের সময় ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে আরও কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। ৪. ফেরি পারাপার: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরিতে আগে যাত্রী নামিয়ে তারপর যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করা হবে।
বিআরটিএ (BRTA) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। ইতিমধ্যে চালু থাকা সিসিটিভি ও স্পিড ক্যামেরার পরিধি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
]]>বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া বা ‘মিটার চার্জ’ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সাধারণ মানুষের খরচ কমিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতদিন মিটারের দাম উঠে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর ভাড়া দিয়ে আসা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলোর জোরালো দাবির মুখে সরকার এই চার্জ তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দ্রুতই এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
]]>দেশবাসীকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই, পর্যায়ক্রমে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এমনকি নারী ডিসি ও এসপিরা, এমনকি আমার স্ত্রীও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। কারণ জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি কার্ড নয়, এটি সাধারণ মানুষের শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক। এটি আপনাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। এমনকি এর মাধ্যমে পরিবারে ও সমাজে নারীর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এই অবহেলিত এলাকাকে কার্ড বিতরণের জন্য বেছে নিয়েছেন।
সদ্য গঠিত সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র ২২ দিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ১৬ তারিখ থেকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে, যার মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে খরা মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া প্রত্যেক কৃষককে ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচের সুবিধা ভোগ করবেন।
অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না, মানুষ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে এবার কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা টাকা-পয়সা ছাড়াই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, ২০২৭ সাল নাগাদ স্থানীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং বেকারত্ব দূর করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এনডিসি ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। এছাড়া জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ও বিপুল সংখ্যক উপকারভোগী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
]]>